Saturday, November 27, 2021
Home ছোটগল্প ছোটগল্প | অনাকাঙ্খিত( ০১) সাঈদুর রহমান লিটন 

ছোটগল্প | অনাকাঙ্খিত( ০১) সাঈদুর রহমান লিটন 

অনাকাঙ্খিত( ০১)
সাঈদুর রহমান লিটন 
সাঈদুরমান লিটন
শীতের সকালে  রফিক, ইস্রাফিল, ওবায়দুর, শিল্পীর  সাথে আরো দুই একজন আছে। ওরা প্রাইভেট পড়তে সুবাস স্যারের বাড়ি যাচ্ছে।
রফিক বলল, স্যারের দেয়া অংক আমি সমাধান করতে পারি নাই।
সঙ্গে সঙ্গে ওবায়দুর,ইস্রাফিল, শিল্পী সমস্বরে বলে ওঠলো
আমি ও।
সবাই হি হি করে হেসে দিল।
শিল্পী বলল, আমরা কেউ করি নাই। তাহলে বেশ ভালই কান ধরে দাঁড়াতে হবে না। আর না হয় সবাই লাইন ধরে কান ধরে দাঁড়াবো। হি হি খুব মজা হবে।
এর মাঝে হাঁপাতে হাঁপাতে সাঈদ এলো, বলল
তোরা শুনছিস আমি স্যারের অঙ্ক করি নাই।মানে পারি নাই।
সবাই বলল আমরাও।
সাঈদ একটু টেনশান মুক্ত হলো। বলল,স্যার সহজ অঙ্ক গুলো করে দিয়ে আমাদের কে কঠিন গুলো করতে দেয়।স্যার নিজেই পারে না, নোট দেখে করে দেয়।
ইস্রাফিল বলল তাই তো।এটা তো ভেবে দেখিনি।স্যারের কাছে নোট থাকে। আজ যদি স্যার আমাদের কে মারে তাহলে এর একটা বিহিত করতেই হবে।
শিল্পী বলল, তাহলে যাতে স্যার না মারতে পারে তার  একটা বিহিত ব্যবস্থা আগে থেকেই করতে হবে।
রফিক বলল তাহলে কি করা যায়? যে কোন ব্যবস্থা তো একটা করতেই হবে।
সাঈদ বীর দর্পে বলে উঠল, সে ভাবনা আমার ভাবাই আছে। চল আজ পড়তে।
সাঈদ পড়তে গিয়ে স্যারের অঙ্কের সমাধান বই আগেই নিজের ব্যাগের মধ্যে রেখে দিল।
স্যার রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই সবাই এক এক করে বলল স্যার আজ আমরা অঙ্ক মিলাতে পারি নাই স্যার।
স্যার,রেগে গরগর করে বলতে লাগলো, মনযোগ সহকারে অঙ্ক করবে না।শুধুমাত্র কথা  গল্প গুজব করবে।তাহলে অঙ্ক মিলবে কিভাবে। বললেন, একজন খাতা দাও অঙ্কটি করে দেই।
শিল্পী খাতা এগিয়ে দিলো, এই যে স্যার খাতা।
স্যার অঙ্কের প্রথম কয়েক লাইন ভালই করলেন।তারপর মাথা চুলকাতে লাগলেন। বললেন কয়েক দিন যাবৎ এলার্জি টা একটু বেড়েছে।
আর টেবিলের এ প্রান্ত ও প্রান্ত কি যেন মনে মনে খুঁজতে লাগলেন। কয়েক মিনিট গত হলে স্যার বললেন, পেটে একটু ভটভট করছে একটু বাথরুম থেকে আসি।তোরা অঙ্ক কর। স্যার প্রায় বিশ মিনিট যাবৎ নিজের রুমে যেখা সমাধান গাইড  থাকার সম্ভাবনা আছে সব জায়গায় তল্লাশি করে না পেয়ে এসে বললেন, তোমরা অঙ্কটি আরেকবার চেষ্টা করো বাড়িতে গিয়ে। আমার হাতে সময় নেই। আমার একটা জরুরী ফোন এসেছে আমার তাড়াতাড়ি সেখানে যেতে হবে।
রফিক, ইস্রাফিল, সাঈদ, শিল্পী, ওবায়দুর এ, ওর মুখের দিকে তাকালো।মনে মনে কি বললো জানি না।পরক্ষণেই সবাই ফিক করে হেসে দিল।
সাঈদুর রহমান লিটন
গ্রামঃ জগন্নাথদী পোঃ ব্যাসদী গাজনা
মধুখালী, ফরিদপুর।
সম্পর্কিত আর্টিকেল

বিজ্ঞাপন

লেখা আহবান

সর্বশেষ প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে নির্মিত হচ্ছে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন প্রেমীদের জন্য নির্মিত হচ্ছে শিল্পাঙ্গন নামের একটি প্রতিষ্ঠান । প্রায় ২৫ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত লক্ষ্মীপুরের ঐতিহাসিক দালাল বাজার...

শরৎ আসে, হামিদা আনজুমান

শরৎ আসে হামিদা আনজুমান শরৎ আসে শুভ্র হাসি শাপলা ফোটা পথে অরুণ কিরণ রাঙা পায়ে কাশ ফুলেদের রথে। শিউলি তলে জাফরাণী ঢেউ শিশির বিন্দু দুলে শরৎশশি জোছনা বিলায় প্রণয়...

নিমন্ত্রণ, এম. এ. শিকদার

নিমন্ত্রণ এম. এ. শিকদার চল্ রে খোকা চল্ রে খুকি আমার সাথে চল, ঐ যে দ্যাখ না— ফল বাগানে! আছে অনেক ফল। লিচু আছে কাঠাল আছে আরো আছে আম, ইচ্ছে মতো পারবি...

ইচ্ছে করে, মিজানুর রহমান

ইচ্ছে করে মিজানুর রহমান ইচ্ছে করে ঘুড়ির মতো আকাশপানে উড়তে রাখাল হয়ে সবুজ বনে মন শুধু চায় ঘুরতে। পাখির মতো মুক্তমনা অবুঝ মনের চাওয়া কিচিরমিচির ভোরবেলাতে গানের কলি গাওয়া। হঠাৎ আবার ইচ্ছে জাগে হতে মাঠের...